<< দুই জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৪

দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নরসিংদীতে তিন এবং কক্সবাজারে একজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তারা মারা যান।

নরসিংদীর রায়পুরায় ইউপি নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার বাঁশগাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বাঁশগাড়ি এলাকার হেকিম মিয়ার ছেলে মো. সালাউদ্দিন (৩০), একই এলাকার জাহাঙ্গীর (২৬) এবং দুলাল মিয়া (৫০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিত কুমার ঘোষ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাঁশগাড়ি ইউপিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আশরাফুল হক সরকার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতীকের জাকির হোসেন। এটা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সারা রাত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। ভোরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় তারা।

এদিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে সালাউদ্দিন মিয়া (৪০) নামে একজনের মরদেহ পৌঁছেছে। সালাউদ্দিনের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বলেন, ভোরে গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার স্বামী মারা যায়।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হারুনুর রশিদ বলেন, নরসিংদী জেলা হাসপাতালে একটি মরদেহ আর নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে আরেকটি মরদেহ আছে।

রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিত কুমার ঘোষ বলেন, আজ ভোরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রথমে দুলাল মিয়া (৫০) নামে  একজন নিহত হয়েছে বলে জেনেছি। পরে আরও দুইজনসহ তিনজন নিহতের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি আমরা। দুলাল মিয়ার মরদেহ মর্গে আনার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউপি নির্বাচনের ভোট চলাকালীন সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আক্তারুজ্জামান পুতু (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৬ জন আহত হয়। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকালে খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়ায় ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, নিহত আকতারুজ্জামান খুরুশকুল ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী (বর্তমান মেম্বার) শেখ কামালের ছোট ভাই। কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর সিপিএসসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মেম্বার প্রার্থী শেখ কামালসহ কয়েকজন আহত হন। সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে আহত আকতারুজ্জামান পুতুকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রত্যক্ষদর্শী ওমর ফারুক জানান, ভোট চলাকালীন ওই ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী বাবুলের সমর্থকরা ব্যালট পেপার আলাদা করে সিল মারার চেষ্টা করলে অপর মেম্বার প্রার্থী শেখ কামালের ভাই আকতারুজ্জামান বাধা দেয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, এ সময় গুলিবিদ্ধ হন আকতারুজ্জামান। আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

শেয়ার করলে অনুপ্রাণিত হবো...

Leave a Reply

Your email address will not be published.